Header Ads

Header ADS

শেষ মুহূর্তের নাটক, কেপ ভার্দেকে ৩-২ হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা


আজ রবিবার, ২১শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

শেষ মুহূর্তের নাটক, কেপ ভার্দেকে ৩-২ হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ৩-২ কেপ ভার্দে | বিশ্বকাপ ২০২৬ রাউন্ড অব ৩২ ফল

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জিতে শেষোলোয় মেসির দল। বিস্তারিত ফল, গোলদাতা ও পরবর্তী প্রতিপক্ষ জানুন।

আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচটি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ পরিণত হলো এক অবিস্মরণীয় লড়াইয়ে। কাগজে-কলমে বিশাল ব্যবধানের ম্যাচটিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েও আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জিতে কোনোমতে পরেরাউন্ডে উঠেছে, তবে তার আগে দুইবার সমতা ফিরিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। বাংলাদেশের কোটি ফুটবলভক্ত, বিশেষত মিরপুর-ঢাকার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য এই জয় ছিল স্বস্তির, আবার প্রতিপক্ষের সাহস ছিল মুগ্ধ হওয়ার মতো।

অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টিনা দলের উদযাপনের দৃশ্য।
অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা।


ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় মিয়ামি গার্ডেনসের হার্ড রক স্টেডিয়ামে। শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিয়ামি গার্ডেনসে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি হয়।

শুরুটা প্রত্যাশিত পথেই এগোয়। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত গোলে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ স্বাভাবিক নিয়মেই এগোবে, তখন প্রথম ধাক্কাটি আসে ডেরয় দুয়ার্তে সমতা ফেরালে। ২৯তম মিনিটে মেসি এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে, আর দ্বিতীয়ার্ধে দুয়ার্তে কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আসল নায়ক ছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। গ্রুপ পর্বে স্পেনকে রুখে দিয়ে বীর বনে যাওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহা এই ম্যাচেও ৮টি সেভ করেন, যার চারটিই ছিল মেসির শট থেকে—এর মধ্যে দুটি সরাসরি ফ্রি-কিক মেসির আদর্শ রেঞ্জের ভেতরে।

অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ভোজিনহাকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেও ১০৩তম মিনিটে সিদনি লোপেস কাবরাল আবারও সমতা ফেরান। গোটা মায়ামি স্টেডিয়াম—আর পুরো ফুটবল বিশ্ব—স্তব্ধ হয়ে যায় যখন কাবরাল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলটি বাঁকিয়ে জালে জড়ান।

শেষ পর্যন্ত ভাগ্য ফেরে আর্জেন্টিনার পক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ১১১তম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের রক্ষণ টপকে জালে যায়; পরে সেটি ডিফেন্ডার দিনি বোর্হেসের গায়ে লেগে দিক বদলানোয় আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হয়।

কেপ ভার্দের বিদায় হলেও তাদের অর্জন কম নয়। আয়তনে বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশ এবং আর্জেন্টিনার প্রায় ১ শতাংশ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে এ পর্যায়ে ওঠায় ফিফা থেকে পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার।  অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ জয়, রূপকথা ভেঙে শেষোলোয় মেসিরা

মিয়ামি থেকে: বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচটি শেষ হলো এক মহাকাব্যিক লড়াই দিয়ে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা শিবিরের উদযাপন দেখে যে কেউ চমকে যেতে পারেন—কেবল একটি নকআউট ম্যাচ জিতেই যেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ। কারণটাও স্পষ্ট; হারতে হারতে বেঁচে যাওয়ার স্বস্তি।

দিনি বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষোলোয় জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা, আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন থেকে রক্ষা পায় তারা। নকআউটে ওঠা ইতিহাসের সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কের দেশটি প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চ্যাম্পিয়নদের একেবারে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল—যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ম্যাচে পরিণত হয়।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে মেসির নেওয়া দর্শনীয় চিপে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া কেপ ভার্দে ৫৯ মিনিটে দুয়ার্তের গোলে সমতা ফেরায়। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আবার এগিয়ে দেন দলকে, তবে ১০৩ মিনিটে কাবরালের অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে ফের সমতা। শেষমেশ ১১১ মিনিটে রোমেরোর হেড বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের।

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও শেষ দিকে দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা একের পর এক সেভ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসিদের সামনে দেয়াল হয়ে।

এই জয়ে শেষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসর, যারা শুক্রবার আগেই পেনাল্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে।

মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের একটি দেশ কীভাবে কাঁপিয়ে দিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের? জানুন সেই ১২০ মিনিটের গল্প।

১০৩ মিনিটে যখন কাবরালের বাঁকানো শট জালে জড়াল, তখন মায়ামির গ্যালারিতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন লেখা হচ্ছিল—তারপর কী হলো?

আর্জেন্টিনা কি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ জিততে পেরেছিল?

(উত্তর: না, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়ে ৩-২ ফলে নিষ্পত্তি হয়।)

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ মিয়ামিতে অতিরিক্ত সময়েরুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষোলোয় আর্জেন্টিনা; দুইবার সমতা ফিরিয়ে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার দলটি।

এমন ঘাম-ঝরানো পারফরম্যান্স নিয়ে আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখার পথে এগোতে পারবে?

মেসির গোল, কাবরালের অবিশ্বাস্য শট আর বোর্হেসের আত্মঘাতী গোল—বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষোলোয় আর্জেন্টিনা।

এই জয় আর্জেন্টিনাকে শেষোলোয় তুললেও দলটির রক্ষণ ও ফিনিশিং নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আর্জেন্টিনা ২২টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখলেও কেপ ভার্দে সেটপিস ভেঙে দিয়ে স্কোরলাইন ধরে রেখেছিল। অন্যদিকে হারলেও কেপ ভার্দে বিশ্বফুটবলে নিজেদের সম্মানজনক জায়গা করে নিল। তারা প্রথমবার সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে স্পেন, সৌদি আরব, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স রেখে গেল, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নৈতিক দিক থেকেও এটি স্মরণীয়—কর্মে সততা ও সর্বোচ্চেষ্টা মানুষকে হারিয়েও জেতায়; হাদিসের নির্যাসেও রয়েছে, আল্লাহ পছন্দ করেন যে কোনো কাজ যে নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়।

প্র: আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের ফল কী?

উ: অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জেতে, তবে এর আগে কেপ ভার্দে দুইবার সমতা ফিরিয়েছিল।

প্র: ম্যাচটি কোথায় ও কবে হয়েছিল?

উ: ৩ জুলাই ২০২৬, মিয়ামি গার্ডেনসের হার্ড রক স্টেডিয়ামে।

প্র: আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি কার?

উ: গোলটি প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নামে দেওয়া হলেও পরে কেপ ভার্দের আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য হয়।

প্র: শেষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কারা?

উ: শেষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসর।

আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচটি প্রমাণ করল, নকআউট ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মেসিরা টিকে গেছেন, কিন্তু এই জয় সতর্কবার্তাও বটে। আর কেপ ভার্দে হেরেও জিতে নিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বের হৃদয়। এখন সবার চোখ শেষোলোর দিকে।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সব আপডেট, ম্যাচ ফল ও বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন Dhaka News। এই খবরটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.